বিষয়াবলী

জীবন বীমা

 

জীবন বীমা এমন একটি চুক্তি যেখানে এককালীন অর্থ বা নির্দিষ্ট সময়ামেত্মর কিসিত্ম পরিশোধের প্রতিদানে বীমাগ্রহীতার মৃত্যুতে অথবা নির্ধারিত বছর সমূহের শেষে বীমাকারী বৃত্তি অথবা নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ পরিশোধের দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

 

জীবন বীমার বিবর্তনের ইতিহাস

 

  • (একটি জীবন বীমা প্রতিষ্ঠান) প্রতিষ্ঠিত হয়- ইংল্যান্ডে, ১৮৯৬ সালে
  • The Oriental Life Assurance Company গঠিত হয়- ১৮১৮ সালে
  • ডাক জীবনবীমা চালু হয়- ১৯৭২ সালে
  • ALICO বাংলাদেশে কাজ শুরু করে ১৯৭৪ সাল থেকে
  • Alliance Insurance Company গঠিত হয়- ১৮২৪ সালে

 

জীবন বীমার শ্রেণীবিভাগ

 

 

 

মেয়াদের ভিত্তিতে বীমাপত্রের প্রকারভেদ

 

মেয়াদী বীমাপত্র

যে বীমাপত্রের মাধ্যমে এ মর্মে প্রতিশ্রম্নতি দেয়া হয় যে, বীমাগ্রহীতা নির্দিষ্ট বয়সে পদার্পণ করলে বীমাপত্রে উলেস্নখিত নির্দিষ্ট অর্থ প্রদান করা হবে অথবা উক্ত সময়ের পূর্বে বীমাগ্রহীতার মৃত্যু ঘটলে তার উত্তরাধিকারী ও মনোনীত ব্যক্তি বীমাপত্রে উলেস্নখিত নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ পাবে সেক্ষেত্রে ওই বীমাপত্রকে বলা হয় মেয়াদী বীমাপত্র।

আজীবন বীমাপত্র

যে বীমাচুক্তির মাধ্যমে বীমাগ্রহীতাকে তার মৃত্যুকাল পর্যমত্ম বীমা প্রিমিয়ামের টাকা পরিশোধ করতে হয় এবং বীমাকারী, বীমাগ্রহীতার মৃত্যুর পর তার উত্তরাধিকারী বা মনোনীত ব্যক্তিকে বীমাপত্রে উলেস্নখিত নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ প্রদানের প্রতিশ্রম্নতি দেয় সেই বীমাপত্রকে বলা হয় আজীবন বীমাপত্র।

সাময়িক বীমাপত্র

এ ধরনের বীমাপত্রের মেয়াদ সাধারণত ২ মাস থেকে সর্বোচ্চ ৭ বছর পর্যমত্ম হতে দেখা যায়। নির্দিষ্ট মেয়াদের মধ্যে বীমাকৃত ব্যক্তি মারা গেলে বীমাদাবির অর্থ পরিশোধ করা হয়। বীমাকৃত ব্যক্তি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে মারা না গেলে বীমাদাবি পায় না

 

প্রিমিয়াম : বীমাকারী বীমাগ্রহীতাকে ক্ষতিপূরণ প্রদানের প্রতিশ্রম্নতির বিনিময়ে বীমাগ্রহীতার কাছ থেকে বিভিন্ন কিস্তিতে যে অর্থ গ্রহণ করে থাকে, তাকে প্রিমিয়াম বলা হয়।

 

 

প্রিমিয়াম নির্ধারণের পদ্ধতি

 

  • নিরূপণ পদ্ধতি (সর্বাধিক প্রাচীন পদ্ধতি)
  • স্বাভাবিক প্রিমিয়াম পরিকল্পনা (মৃত্যু সম্ভাবনার হারের উপর ভিত্তি করে নেয়া হয়। মৃত্যু সম্ভাবনার হার বাড়লে প্রিমিয়ামও বাড়ে।)
  • সুষম পরিকল্পনা (প্রত্যেক বছর একই পরিমাণ প্রিমিয়াম দিতে হয়)

 

বোনাস
জীবন বীমা কোম্পানির মূল্যায়নের পর উদ্বৃত্ত প্রকাশিত হলে তার একটা অংশ মুনাফাযুক্ত বীমাপত্রের মালিকদের মধ্যে বণ্টন করে দেয়া হয়। এই মুনাফা বণ্টন ব্যবস্থাকে বোনাস বিতরণ ব্যবস্থা বলা হয়।

 

বার্ষিক বৃত্তি (Annuity)
সমপরিমাণ অর্থ একটি নির্দিষ্ট সময় পরপর পরিশোধ করাকে বার্ষিক বৃত্তি বলা হয়।

 

সাধারণ বার্ষিক বৃত্তি

যে বার্ষিক বৃত্তির মাধ্যমে ভাতাভোগী নির্দিষ্ট হারে সারা জীবন ধরে ভাতা পেয়ে থাকেন, তাকে সাধারণ বার্ষিক বৃত্তি বলে। এতে চুক্তির শুরুতে প্রিমিয়ামের সম্পূর্ণ টাকা পরিশোধ করে দিতে হয়।

তাৎক্ষণিক বৃত্তি

যে বৃত্তি ব্যবস্থায় বীমা কোম্পানিকে চুক্তি অনুযায়ী অর্থ প্রদানের পরপরই ভাতা প্রদান কার্যকরী হয়, তাকে তাৎক্ষণিক বৃত্তি বলে।

প্রতিশ্রম্নত বৃত্তি

বৃত্তিগ্রহীতা বৃত্তিচুক্তিতে একটা ন্যূনতম সময় পর্যমত্ম ভাতাপ্রাপ্তির বিষয়টি নিশ্চিত করে চুক্তি সম্পাদন করতে পারে। একে বলা হয় প্রতিশ্রম্নত বৃত্তি।

একক জীবন বৃত্তি

যদি কোন বৃত্তিচুক্তিতে ভাতা ভোগকারীর সংখ্যা সকল অবস্থায় একজন থাকে তখন তাকে একক জীবন বৃত্তি বলে।

যৌথ জীবন বৃত্তি

যে বৃত্তি ব্যবস্থায় দুই বা ততোধিক ব্যক্তির যৌথ জীবনকাল পর্যমত্ম ভাতা প্রদান করা হয় তাকে যৌথজীবন বৃত্তি বলে।

সাময়িক বৃত্তি

এ ধরনের চুক্তিপত্রের অধীনে ভাতা প্রদানের একটা নির্দিষ্ট সময় বা মেয়াদের উলেস্নখ থাকে।

 

সমর্পণ মূল্য

 

  • বীমাপত্রের মেয়াদপূর্তির পূর্বে বীমাপত্র সমর্পণ করলে যে মূল্য বা প্রতিদান চাওয়া হয় তাকে সমর্পণ মূল্য বলা হয়।
  • বাংলাদেশে সর্বোচ্চ সমর্পণ মূল্য দেয়া হয়- ৮০%
  • বীমা পলিসির মেয়াদ কমপক্ষে ২ বছর উত্তীর্ণ না হলে সাধারণত সমর্পন মূল্য প্রদান করা হয় না
  • Prof. M N Mishra এর মতে সমর্পণ মূল্য নির্ণয়ের ভিত্তি ২টি-
  • সঞ্চিতি ভিত্তিতে; সমর্পণ মূল্য = সমর্পণ মূল্য - সমর্পণ খরচ
  • সঞ্চয় ভিত্তিতে ; সমর্পণ মূল্য = বীমা অর্থ + ভবিষ্যৎ খরচের জমাকৃত অংশ + ভবিষ্যত প্রদেয় বোনাস (পুঞ্জীভূত অর্থ + সমর্পণ খরচ)